রেজি নং -৬১০, বর্ষ-১১, সংখ্যা-৩৪।   Email: info@souhardobd.com,   মোবাইল: ০১৭৫৪-০৬৫৭০১

শনিবার , ডিসেম্বর ১৪ ২০১৯
Home / ঐতিহ্য / ‘তিতির পাখি চাষে পাল্টে যাবে খামারিদের অর্থনৈতিক মন্দা’

‘তিতির পাখি চাষে পাল্টে যাবে খামারিদের অর্থনৈতিক মন্দা’

রাজশাহী অফিস : তিতির অত্যন্ত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি পাখি। এছাড়া এর বাজার মূল্য দেশি হাঁস-মুরগির চেয়ে অনেক বেশি। তাই এটি লালন-পালন করা অন্য দেশি মুরগির চেয়ে লাভজনক। বৃহস্পতিবার (০৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজশাহী মহানগরীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

এসময় বক্তারা বলেন, দেশের গ্রামাঞ্চলে তিতির পাখি চীনা মুরগি নামে পরিচিত। আফ্রিকান এই পাখিটি ইংরেজদের হাত ধরে ইউরোপ থেকে ব্রিটিশ উপনিবেশের সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় আসে। কিন্তু বাংলাদেশে এরা প্রায় বিপন্ন হতে চলেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত। এখন এ পাখিটি বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন করার জন্য দেশবাসীর প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।

প্রফেসর ড. সুভাস চন্দ্র দাশের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ লাইভস্টক সোসাইটির সভাপতি ও রাবির প্রফেসর ড. জালাল উদ্দিন সরদার, লাইভস্টক সোসাইটির সভাপতি মোশারফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ড. মো. হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ।

রাজশাহীর মেহেরচন্ডী গ্রামে বিনামূল্যে তিতির পাখি বিতরণ এবং নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বন্যার্ত প্রানীদের মাঝে চলমান ত্রান বিতরণ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে নারী উদ্যোগতা সেলিনা বেগম, প্রভাষক ডা. মো. রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় বক্তারা বলেন, ব্র্যাক এনএপিটি ফেজ-২ প্রকল্পের আর্থিক সহযোগিতায় খামারিদের মাঝে তিতির পাখি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি সায়েন্স বিভাগের আয়োজনে, বাংলাদেশ লাইভস্টক সোসাইটির সার্বিক সহযোগিতায় মহানগরীর মেহেরচন্ডিতে খামারিদের মাঝে গত মঙ্গলবার বিনামূল্যে তিতির পাখি বিতরণ করা হয়েছে।

বক্তারা আরো বলেন, দেশি মুরগির মতোই এদের লালন-পালন করা যায়। তিতির পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যান্য পাখির তুলনায় বেশি। সংক্রমণ বা পরজীবী সহজে আক্রান্ত করতে পারেনা। আলাদা কোনো ভ্যাকসিন বা ওষুধ দেয়ারও প্রয়োজন হয় না। এমনকি এদের খাদ্যের চাহিদাও কম। প্রতিকূল পরিবেশ এরা নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। দেশি মুরগি যেখানে ছয় মাসে সর্বোচ্চ এক কেজি ওজনের হয় সেখানে তিতির পাখি দেড় কেজির অধিক হয়ে থাকে। একটি দেশি মুরগি বছরে ৫০-৬০টা ডিম পাড়লেও একটি তিতির পাখি বছরে প্রায় ১০০-১২০টি ডিম দেয়। সবদিক েিবচনা করলে ডিম আর মাংসের উৎপাদনে পোল্ট্রির চেয়ে তিতির পাখি পালনে দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।