রেজি নং -৬১০, বর্ষ-১১, সংখ্যা-৩৪।   Email: info@souhardobd.com,   মোবাইল: ০১৭৫৪-০৬৫৭০১

শনিবার , ডিসেম্বর ১৪ ২০১৯
Home / ভ্রমণ / নতুন পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণে ডিসিদের উদ্যোগ নিতে বললেন পর্যটনমন্ত্রী

নতুন পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণে ডিসিদের উদ্যোগ নিতে বললেন পর্যটনমন্ত্রী

এফএনএস: চট্টগ্রামে পারকি, কুমিল্লার লালমাই, বরিশালের দুর্গা সাগরদীঘি, নোয়াখালীর নিঝুম দ্বীপ এবং ফরিদপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলায় নতুন পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল। গতকাল বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। শাহজাহান কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা এবং বাগেরহাটে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্প সরকার গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, এই প্রকল্প যাতে ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয় সেজন্য যা যা করা প্রয়োজন তা যেন আগেভাগে ডিসিরা সরকারকে জানায়। কাজ করতে গিয়ে কোনও সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। সরকার এ দু’টি প্রকল্প খুব গুরুত্ব সহকারে বাস্তবায়ন করতে চায়। সম্মেলনে আলোচনার বিষয় প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শাজহান কামাল বলেন, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণ এবং সিলেট, বরিশাল ও সৈয়দপুর বিমানবন্দর উন্নয়নের জন্য মাস্টার প্ল্যান প্রস্তুত করা হয়েছে। ওই পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়নে ডিসিদের যা যা করা প্রয়োজন তা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে, ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প বাস্তবায়নে ডিসিদের সর্বাধিক মনোযোগী হওয়ার নির্দেশ নিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। গতকাল বুধবার বিকালে চলমান ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০১৮’ এর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত অধিবেশনে জেলা প্রশাসকদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মোশাররফ হোসেন বলেন, এ প্রকল্পটি পৃথিবীতে একটি ইউনিক প্রকল্প। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ঋণের পরিবর্তে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সরকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নপ্রসূত এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২০ সালের মধ্যে ৬০ হাজার ৬১৫ টি সমিতি গঠন করা হচ্ছে – যার সদস্য সংখ্যা হবে প্রায় ৩ কোটি। তিনি বলেন, দরিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী প্রত্যেকটি মানুষকে এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বি করার লক্ষ্যে প্রকল্পটির এ পর্যন্ত তিনবার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। যতদিন দেশ থেকে দারিদ্য্র বিমোচন না হবে ততদিন এ প্রকল্প পরিচালিত হবে। ২০২০ পরবর্তী সময়ে সমিতির সদস্যরা এ ব্যাংক থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে স্বাবলম্বি হতে পারবে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার পাঁচটি স্তরে ৬০ হাজারেরও অধিক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা পরিষদের কার্যক্রমে জেলা প্রশাসকগণ সরাসরি জড়িত। মাঠ প্রশাসনে কাজ করার কারণে জেলা প্রশাসকরা জনগণের কাছাকাছি থেকে তাদের জীবনমান উন্নয়নে জোরালো ভূমিকা রাখতে পারেন। মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের ধারাবাহিক সফলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকরাও এ সফলতার সমান অংশীদার। আপনাদের মনিটরিং, সমন্বয় ও দক্ষ প্রশাসনিক ভূমিকার কারণে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। এলজিআরডি মন্ত্রী জানান, দেশে বিদ্যমান ১১ টি সিটি কর্পোরেশন, ৬১ টি জেলা পরিষদ, ৩২৯ টি পৌরসভা, ৪৯২ টি উপজেলা পরিষদ ও ৪ হাজার ৫৭১ টি ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের চাহিদা ও উপযোগিতা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের কাছে দেয়া সরকারের নির্বাচনী অঙ্গিকার পূরণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকারকে গতিশীল ও কার্যকর করতে ৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থানীয় সরকার সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি-৩) বাস্তবায়িত হচ্ছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের সাথে জেলা প্রশাসনের কোন সমন্বয়হীনতা নেই। উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার একযোগে কাজ করছে। সম্মেলনে জেলা প্রশাসকরা ইউনিয়ন পরিষদ শক্তিশালীকরণ, গ্রাম পুলিশের আধুনিকায়ন, দেশের প্রতিটি মহানগর, জেলা ও উপজেলায় আধুনিক শিশুপার্ক স্থাপন, কুমিল্লা ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় বর্জ্য শোধণাগার নির্মাণ, সমবায় আইন সংশোধন ও বিআরডিবি’র আওতাধীন সমবায় সদস্য কর্তৃক উদ্ভাবিত পণ্যের মেধাসত্ত্বের বিষয়সহ বেশ কয়েকটি প্রস্তাবনা ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন।