রেজি নং -৬১০, বর্ষ-১১, সংখ্যা-৩৪।   Email: info@souhardobd.com,   মোবাইল: ০১৭৫৪-০৬৫৭০১

বৃহস্পতিবার , ডিসেম্বর ১২ ২০১৯
Home / ব্যবসা-বাণিজ্য / কপিরাইটকৃত পরিকল্পনার অবৈধ ব্যবহারে অভিযুক্ত ২৬ বীমা কোম্পানী

কপিরাইটকৃত পরিকল্পনার অবৈধ ব্যবহারে অভিযুক্ত ২৬ বীমা কোম্পানী

কপিরাইটকৃত পরিকল্পনার অবৈধ ব্যবহারে অভিযুক্ত হয়েছে ২৬ বীমা কোম্পানী। অভিযোগের ১ বছর পর অবশেষে বীমা কোম্পানীগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে কপিরাইট কার্যালয়। সাপ্তাহিক সৌহার্দ্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ হাসানুল আলম গত বছরের জানুয়ারিতে তার উদ্ভাবিত পরিকল্পনার অবৈধ ব্যবহারের অভিযোগ করলে এক বছরে একাধিক শুনানীর পর এই চিঠি প্রেরণ করা হলো। ২০ ফেব্রুয়ারি রেজিস্টার জাফর রাজা চৌধুরী এই চিঠি প্রেরণ করেন।

চিঠিতে জানানো হয়, সাপ্তাহিক সৌহার্দ্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোহাম্মদ হাসানুল আলম স্বরচিত ও উদ্ভাবিত জীবন বীমা সংক্রান্ত কয়েকটি নতুন পরিকল্পনা প্রনয়ন করেন। এই পরিকল্পনা তিনি কপিরাইট রেজিস্ট্রেশনও করান। যার নম্বর ১৫৪০৫। পরে হাসানুল আলমের পরিকল্পনা দেশের ২৬টি বীমা কোম্পানি তার সাথে কোন প্রকার চুক্তি না করে অবৈধভাবে নাম পরিবর্তন করে ব্যবসা করে যাচ্ছে। এজন্য তিনি গত বছরের জানুয়ারিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধিনে কপিরাইট অফিসে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সত্যতা মিললে একাধিকবার শুনানি করেন কপিরাইট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এসব শুনানীতে অভিযুক্ত ৪টি বীমা কোম্পানি ছাড়া আর কেউ অংশ নেয়নি।

চিঠিতে আরও বলা হয়, অভিযোগ ও অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানীর পর কপিরাইট কর্তৃপক্ষ বিষয়টির যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য জাতীয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বলে মনে করেন।

এ বিষয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন কপিরাইট অফিসের রেজিস্টার জাফর রাজা চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘বীমা কোম্পানিগুলোর দেনমোহর বীমা, ইসলামিক দেনমোহর বীমা, বিবাহ বীমা ও দাম্পত্ত বীমার নিয়মনীতির সাথে অভিযোগকারীর কপিরাইটকৃত পরিকল্পনার মিল আছে। তবে শুনানীতে উপস্থিত চার কোম্পানির প্রতিনিধিরা পরিকল্পনাগুলো তাদের বিশেষজ্ঞ দলের তৈরি বলে দাবি করেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

মিল থাকার পরও ব্যবস্থা না নিয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আসলে বীমা কর্তৃপক্ষের কোনো আইন আছে কিনা সেটা যাচাই করে তারপর আমরা পদক্ষেপ নিয়ে সুষ্ঠু সমাধান করতে চাচ্ছি। সেজন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে সবকিছু বিস্তারিত জানানো হয়েছে। সেখান থেকে উত্তর এলে আমরা ব্যবস্থা নেবো।

এ বিষয়ে জাতীয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারীকে তার অফিসিয়াল নম্বরে কল করা হলে একজন জানান, স্যার জরুরি সভায় ব্যস্ত আছেন। সংবাদ প্রসঙ্গে আলোচনা ছিলো জানার পর তিনি জানান, সভা শেষ হওয়ার সঠিক সময় সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। তবে সভা শেষ হলে তিনি চেয়ারম্যানকে জানাবেন। সন্ধ্যায় একই নম্বরে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিব জানান, সংবাদ সম্বন্ধীয় বিষয়াদী প্রশাসন অনুবিভাগ সদস্য গোকুল চারদাস দেখেন। তিনি বলতে পারবেন। পরে ফোনে গোকুল চারদাসের ব্যক্তিগত সচিব অমিত মজুমদার জানান, ‘স্যার চলে গিয়েছেন।’ এরপর আর কোনোভাবে চেয়ারম্যান কিংবা প্রশাসন অনুবিভাগ সদস্যের সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।