রেজি নং -৬১০, বর্ষ-১১, সংখ্যা-৩৪।   Email: info@souhardobd.com,   মোবাইল: ০১৭৫৪-০৬৫৭০১

বৃহস্পতিবার , ডিসেম্বর ১২ ২০১৯
Home / বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি / ১৫ কোটি গ্রাহকের ‘গ্যালারি’ ফেসঅ্যাপের দখলে

১৫ কোটি গ্রাহকের ‘গ্যালারি’ ফেসঅ্যাপের দখলে

প্লে স্টোর থেকে ফেসঅ্যাপ ডাউনলোড করেছেন ১০ কোটি মানুষ। ছবি: সংগৃহীত বেশ কিছুদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে বৃদ্ধ মুখাবয়বের ছড়াছড়ি। ৩০-৪০ বছর পর নিজেকে কেমন দেখাবে, তা জানার আগ্রহে নিঃসঙ্কোচেই ‘ফেসঅ্যাপ’ ব্যবহার করেছেন কোটি কোটি গ্রাহক। অথচ, এটি ব্যবহার করতে গিয়ে নিজের গোপনীয়তা হুমকির মুখে ফেলছেন কি-না, তা নিয়ে মাথাব্যাথা নেই অনেকেরই।

অ্যাপ অ্যানির তথ্যমতে, ইতোমধ্যে ১০ কোটির বেশি মানুষ গুগল প্লে স্টোর থেকে ফেসঅ্যাপ ডাউনলোড করেছেন। এছাড়া ১২১টি দেশজুড়ে আইওএস অ্যাপ স্টোরেও শীর্ষে আছে রাশিয়ার ওয়্যারলেস ল্যাবের তৈরি এ অ্যাপটি। সম্প্রতি জনপ্রিয় মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ফেসঅ্যাপের শর্ত অনুসারে, তারা ব্যবহারকারীর আইপি অ্যাড্রেস, ব্রাউজারের কুকিস, লগ ফাইল, অবস্থানসহ ডিভাইসের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। তাছাড়া, অ্যাপটি ডাউনলোড করার সময় আজীবনের জন্য গ্রাহকের ছবির পূর্ণ মালিকানা লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছবি তারা যখন যেখানে খুশি ব্যবহার করতে পারবে। এমনকি, বিষয়টি ছবির মূল মালিককে জানানোরও প্রয়োজন হবে না। এর বিনিময়ে গ্রাহক কোনো ধরনের মূল্য পরিশোধেরও দাবি জানাতে পারবেন না।

তবে, ফেসঅ্যাপের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, অ্যাপটি ব্যবহার করার সময় গ্রাহকের ফোনের পুরো গ্যালারির অ্যাক্সেস (বিচারণের অনুমতি) চায় প্রতিষ্ঠানটি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, এসব ছবি তারা নিজস্ব সার্ভারে সংরক্ষণ করে রাখছে। অনলাইন ডাটাবেজভিত্তিক মার্কিন প্রতিষ্ঠান র‌্যাকস্পেসের সাবেক ব্যবস্থাপক রব লা জেসি বলেন, ফেসঅ্যাপ ব্যবহার করতে গেলে একে ফোনের সব ছবিতে স্পর্শ করার অনুমতি দিতে হয়। অ্যাপটি ফোনের সিস্টেমসহ অনলাইন সার্চ বিষয়ক তথ্যও সংগ্রহ করে। তাছাড়া, অ্যাপটির ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করার ক্ষমতা আছে। অর্থাৎ, আপনি ফোন ব্যবহার না করলেও, ফেসঅ্যাপ আপনাকে ব্যবহার করবে।

বর্তমান যুগকে বলা হয় ‘ডাটা অ্যানালাইটিক্সের যুগ’। এখন টাকা-পয়সা, সোনা-গহনার চেয়েও দামি হয়ে উঠেছে ব্যক্তিগত তথ্য। কারও সম্পর্কে ছোটখাটো বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তার গতিবিধি, মন-মানসিকতা, অতীত-বর্তমান সবই জেনে ফেলা সম্ভব। আর, মার্কেটিংয়ের বাজারে এসব তথ্যের অনেক দাম। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ‘পার্সোনালাইজড’ বিজ্ঞাপন তৈরি করে, যা দিয়ে ওই ব্যক্তিকে সহজেই প্রভাবিত করা যায়। ধরেন, আপনার এখন আইসক্রিম খেতে ইচ্ছা করছে। এ নিয়ে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিলেন, অথবা কোনো বন্ধুর সঙ্গে মেসেঞ্জারে আলাপ করলেন। কিছুক্ষণ পরই দেখবেন, টাইমলাইনে আইসক্রিমের বিজ্ঞাপন বা ধারেকাছে কোথায় আইসক্রিম পাওয়া যাবে, তা দেখাচ্ছে।

ভাবতে পারেন, এতে সমস্যা কোথায়? সমস্যা হচ্ছে, এসবের মাধ্যমে অ্যাপগুলো শুধু আপনার মতিগতি বা ছবির তথ্যই নেবে না। সুযোগ পেলেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড বা ফেসবুক পাসওয়ার্ডের মতো তথ্য হাতিয়ে নেবে। মনে করুন, কোনো একটি অ্যাপ ব্যবহারের সময় সেটাকে আপনার ফোনের গ্যালারি ও এসএমএস দেখার অনুমতি দিয়েছেন। আর, সেখানেই ব্যাংক-ব্যালেন্স, পাসওয়ার্ড জাতীয় তথ্য সংরক্ষণ করা আছে। হতে পারে, একেবারেই ব্যক্তিগত কোনো ছবি বা ভিডিও আছে গ্যালারিতে। অ্যাপ ব্যবহারের সময় এসব তথ্য হয়তো ঠিকই জমা হচ্ছে তাদের সার্ভারে। এ নিয়ে কখনো যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হবেন না, তার নিশ্চয়তা কী?

‘ক্যামব্রিজ অ্যানালাইটিকা’র নাম মনে আছে নিশ্চয়! ব্রিটিশ এ প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুকে একটি জরিপ অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৮ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছিল। আর, এ তথ্য তারা ব্যবহার করেছিল ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণায়। নির্বাচনের ফলাফল কী হয়েছে তা সবারই জানা! তথ্য ফাঁসের ওই ঘটনায় মার্কিন কংগ্রেসের কাছে জবাবদিহি করতে হয়েছে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গকে। তবে, নিস্তার মেলেনি, এখনো বিভিন্ন দেশে এর তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাজ্য বিশাল অংকের জরিমানা করেছে প্রতিষ্ঠানটিকে।